কুড়িগ্রাম জেলার তথ্য,নাম করণের ইতিহাস ও দর্শনীয় স্থান , আবাসিক হোটেল | Kurigram

কুড়িগ্রাম জেলার তথ্য,নাম করণের ইতিহাস ও দর্শনীয় স্থান , আবাসিক হোটেল | Kurigram

কুড়িগ্রাম জেলা বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রংপুর বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। উপজেলার সংখ্যানুসারে কুড়িগ্রাম বাংলাদেশের একটি “এ” শ্রেণীভুক্ত জেলা।

ভৌগোলিক সীমানা

কুড়িগ্রাম জেলার উত্তরে লালমনিরহাট জেলা ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলা, দক্ষিণে গাইবান্ধা জেলা, পূর্বে ভারতের আসাম রাজ্যের ধুবড়ী জেলা ও দক্ষিণ শালমারা-মানকাচর জেলা এবং পশ্চিমে লালমনিরহাট জেলা ও রংপুর জেলা অবস্থিত।

ইতিহাস এবং নামকরণ

কুড়িগ্রাম জেলার নামকরণের ইতিহাস নিয়ে অনেক কিংবদন্তি রয়েছে। এ বিষয়ে প্রশ্নাতীত বা সন্দেহমুক্ত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। সবই কিংবদন্তি ও প্রচলিত লোকশ্রুতি। তার কিছু কিছু বিষয় সমর্থনযোগ্য মনে হতে পারে। জানা যায়, কোন এক সময় মহারাজা বিশ্ব সিংহ কুড়িটি জেলে পরিবারকে উচ্চ শ্রেণীর হিন্দুরূপে স্বীকৃতি দিয়ে এ অঞ্চলে প্রেরণ করেন। এ কুড়িটি পরিবারের আগমনের কাহিনী থেকে কুড়িগ্রাম জেলার নামকরণ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। বিলু কবীরের লেখা ‘বাংলাদেশের জেলা নামকরণের ইতিহাস’ বই থেকে জানা যায়, এখানে কুড়িটি মেচ্ তৈলজীবী পরিবারের বসতি ছিল বলে এ রকম নামকরণ হয়েছে। অন্য আরেকটি লোকশ্রুতি হলো : রঙ্গপুর অর্থাৎ এই অঞ্চল একদা ছিল কুচবিহার রাজ্যের অন্তর্গত। কুচবিহারের বাসিন্দাদের বলা হয় কোচ। এরা তিওড় গোষ্ঠীবিশেষও। মাছ ধরে বিক্রি করা তাদের পেশা। সুবিধাবঞ্চিত নিচু শ্রেণীর এই হিন্দু কোচদের কুড়িটি পরিবারকে সেখান থেকে এখানে প্রেরণ করা হয়েছিল বা আনয়ন করা হয়েছিল বসতি স্থাপনে জন্য। ওই কুড়িটি কোচ পরিবারের কারণে ‘কুড়িগ্রাম’ নামকরণ হয়েছে। আবার এমনও জানা যায়, এই গ্রামে কুরি বা কুরী নামক একটি হিন্দু আদিবাসী বা নৃগোষ্ঠী বসবাস করত বলেই অঞ্চলটির নাম হয় ‘কুড়িগ্রাম’। অদ্যাবধি এখানে ‘কুরি’ নামক আদিবাসী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস লক্ষ্য করা যায়। এখনও এ অঞ্চলে কুড়ি হিসেবে গোনার পদ্ধতি চালু রয়েছে। বিশিষ্ট পণ্ডিত জা পলিলুস্কি প্রমাণ করেছেন, গণনার এ পদ্ধতি বাংলায় এসেছে কোল ভাষা থেকে। কোল অস্ট্রিক ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্গত। আরব অস্ট্রিক ভাষায় কুর বা কোর ধাতুর অর্থ হলো মানুষ। কুড়ি হিসেবে গোনার পদ্ধতিটিও এসেছে মানুষ থেকেই। এ অস্ট্রিক কারা? পন্ডিতদের মতে, প্রত্নপ্রস্তর যুগে এ অঞ্চলে বাস করত নিগ্রো জাতি। এরপর আসে নব্যপ্রস্তর যুগ। আসামের উপত্যকা অতিক্রম করে আসে অস্ট্রিক জাতীয় জনগোষ্ঠী। তারপরে আসে দ্রাবিড় ও মঙ্গোলীয়রা। এদের মিলিত স্রোতে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় মানবসভ্যতার সূচনা হয়। এরাই লাঙ্গল দিয়ে চাষের প্রবর্তন করেছে। কুড়ি হিসেবে গোনার পদ্ধতি করেছে চালু। নদনদীতে ডিঙি বেয়েছে, খেয়েছে শুঁটকি, খেয়েছে বাইগন বা বেগুন, লাউ বা কদু, কদলী বা কলা, জাম্বুরা, কামরাঙ্গা। করেছে পশু পালন। এঁকেছে কপালে সিঁন্দুর। করেছে রেশম চাষ। করেছে তামা, ব্রোঞ্জ ও সোনার ব্যবহার। প্রসঙ্গত বলা প্রয়োজন, ১৮৫৮ সাল পর্যন্ত দেশ শাসন করত ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’। ১৮৫৮ সালের পর শাসনকার্যের ক্ষমতা চলে যায় ব্রিটিশ সরকারের হাতে। এই ব্রিটিশ সরকারের আমলে কুরিগঞ্জ চারটি থানায় বিভক্ত ছিল। পরে ১৮৭৫ সালে ২২ এপ্রিল তারিখে একটি নতুন মহকুমার গোড়াপত্তন হয়। এ মহকুমার নাম ‘কুড়িগ্রাম’। কুড়িগ্রামঘেষা ব্রহ্মপুত্রের কারণে এখানে আসে বিভিন্ন আদিম জনগোষ্ঠী। এসব কারণে এখানে গড়ে উঠেছিল একটি সভ্যতাও। বিজিত আর্যদের কোন স্মৃতি এখানে নেই। তবে অন্যদের কিছু কিছু ক্ষীয়মাণ রাজচিহ্ন রয়েছে। বারো বা দ্বাদশ শতকের প্রথমপর্বে এ অঞ্চলে সেন রাজবংশের শাসনকাল আরম্ভ হয়। রাজারহাটের বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চত্রা নামক গ্রামে এদের রাজধানী ছিল। এ বংশের উল্লেখযোগ্য কয়েকজন রাজার নাম নীলধ্বজ সেন, চক্রধ্বজ সেন, নীলাম্বর সেন। সেনবংশের পতনের পর শুরু হয় মুঘল যুগ।

See also  গাজীপুর চৌরাস্তায় প্রকাশ্যেই বসছে দেহব্যবসার জমজমাট বাজার! (ভিডিও)

 

প্রশাসনিক এলাকাসমূহ

কুড়িগ্রামের মোট আয়তন ২,২৩৬.৯৪ বর্গকিলোমিটার (৮৬৩.৬৯ বর্গমাইল)। কুড়িগ্রামে আছে – উপজেলা ৯টি, পৌরসভা ৩টি, ইউনিয়ন পরিষদ ৭৩টি এবং গ্রাম ১৮৬টি। মোট পাকা রাস্তা আছে ৪১৪.৯২ কিলোমিটার (২৫৭.৮২ মাইল) এবং কাঁচা রাস্তা আছে ৪,২৬৭.৫৬ কিলোমিটার (২,৬৫১.৭৪ মাইল)।

উপজেলাসমূহ

  • উলিপুর উপজেলা
  • কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা
  • চর রাজিবপুর উপজেলা
  • চিলমারী উপজেলা
  • নাগেশ্বরী উপজেলা
  • ফুলবাড়ী উপজেলা
  • ভুরুঙ্গামারী উপজেলা
  • রাজারহাট উপজেলা
  • রৌমারী উপজেলা

সংসদীয় এলাকা

কুড়িগ্রাম জেলায় সংসদীয় এলাকার সংখ্যা ৪টি।

  • কুড়িগ্রাম- ১ (নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারী)
  • কুড়িগ্রাম- ২( রাজারহাট, কুড়িগ্রাম সদর, ফুলবাড়ী)
  • কুড়িগ্রাম– ৩ (উলিপুর)
  • কুড়িগ্রাম- ৪ (চিলমারী, রৌমারী, রাজিবপুর)

জনসংখ্যা ও ভোটার

  • মোট জনসংখ্যা- ১৮০১৩৫৬ জন, পুরুষ- ৯০৫৯৪৪ জন, মহিলা- ৮৯৫৪১২ জন।
  • মোট ভোটার- ১০৮১১৫৭ জন, পুরুষ- ৫৪১৮৯৫ জন, মহিলা- ৫৮১০৬২ জন।

অর্থনীতি

এই এলাকার অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর। এখানকার অর্থকরী ফসলের মধ্যে ধান, গম, আলু, পাট, তামাক, সরিষা, সুপারী, বাঁশ, আখ, ভুট্টা, বাদাম, কাউন উল্লেখযোগ্য। শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৮৯৩টি, ৪টি বড়, ২৭টি মধ্যম এবং ৮৬২টি কুটির শিল্প। মোট আবাদী জমির পরিমাণ ২,৫৯,৬০৮.২১ একর (১,০৫০.৫৯৭২ বর্গকিলোমিটার)।

শিক্ষা

শিক্ষার হার শতকরা ৫৬%।[৩] উল্লেখযোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো হল-

  • কলেজের সংখ্যা: ৬৪টি
  • হাইস্কুলের সংখ্যাঃ২৬৬টি
  • মাদ্রাসার সংখ্যা: ২৩৮টি
    1. কলেজ সমুহঃ
  • কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ,
  • কুড়িগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজ
  • ভুরুংগামারী সরকারি কলেজ,
  • উলিপুর সরকারি কলেজ।
  • ফুলবাড়ি সরকারি কলেজ
  • নাগেশ্বরী সরকারি কলেজ,
  • রৌমারী সরকারি কলেজ
    1. স্কুল সমুহ
  • কুড়িগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়।
  • ভুরুংগামারী পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়,
  • নাগেশ্বরী ডি এম একাডেমি,
  • উলিপুর এম এস স্কুল এন্ড কলেজ
  • কুড়িগ্রাম কামিল (এমএ) মাদ্রাসা,
  • নাগেশ্বরী কামিল (এমএ) মাদ্রাসা
  • তিলাই উচ্চ বিদ্যালয়, ভুরুংগামারী
  • ভুরুংগামারী নে/উ বালিকা উঃবিঃ
  • মীর ইসমাইল হোসেন ডিগ্রি কলেজ
  • সি,জি জামান উচ্চ বিদ্যালয়
  • বোয়ালমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
  • এইলি মডেল স্কুল, ঘড়িয়ালডাঙ্গা, রাজারহাট।
  • সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা: ৫৬৩টি
  • বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা: ৫৪৫টি

জেলার সর্বসাধারণের জন্য এখানে একটি সরকারি গণগ্রন্থাগার রয়েছে। যা শহরের প্রাণকেন্দ্র তথা কলেজ মোড়, কুড়িগ্রাম সদর, কুড়িগ্রাম-এ অবস্থিত।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান

মসজিদের সংখ্যা ৩৪৯৩টি

  • মন্দিরের সংখ্যা ১৮০টি
  • গির্জার সংখ্যা ৩টি

যোগাযোগ মাধ্যম

রেলপথ

১৬ই অক্টোবর, ২০১৯ সালে রাজধানী থেকে সেমি ননস্টপ ট্রেন কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস চালু হয়।

সময়সূচী

৭৯৮ কুড়িগ্রাম থেকে ছাড়েঃ ০৭ঃ১৫ ঢাকা পৌছেঃ ১৭ঃ২৫

৭৯৭ ঢাকা থেকে ছাড়েঃ ২০ঃ৪৫ কুড়িগ্রাম পৌছেঃ ০৬ঃ২০

কুড়িগ্রাম জেলার দর্শনীয় স্থান

  • ধরলা সেতু
  • ধরলা সেতু-২,ফুলবাড়ী উপজেলা
      • সোনাহাট স্থলবন্দর, ভূরুঙ্গামারী উপজেলা
  • প্রথম আলো চর
  • দাশেরহাট কালী মন্দির
  • কুড়িগ্রামের ১ম শহীদ মিনার(মজিদা কলেজ)
  • শাপলা চত্বর(কুড়িগ্রাম শহীদ মিনার)
  • বিজয়স্তম্ভ (স্টেডিয়াম সংলগ্ন)
  • ঘোষপাড়া মুক্তিযোদ্ধো স্মৃতি ফলক
  • শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ফলক
  • উত্তরবঙ্গ জাদুঘর (নতুন শহর)
  • চান্দামারী মসজিদ
  • কোটেশ্বর শিব মন্দির
  • পাঙ্গা রাজার জমিদারবাড়ি
  • ঘড়িয়ালডাঙ্গা জমিদার বাড়ি
  • টুপামারী (জিয়া পুকুর)
    • উলিপুর মুন্সিবাড়ী
  • ধামশ্রেণী মন্দির
  • জালার পীরের দরগাহ
  • উদুনা-পুদুনার বিল
  • বেহুলার চর
  • ভিতরবন্দ জমিদারবাড়ি
  • সোনাহাট ব্রিজ ভূরুঙ্গামারী উপজেলা
  • ফুল সাগর
  • নাওডাঙ্গা জমিদার বাড়ি
  • চতুর্ভূজ সেনপাড়া শিব মন্দির
  • ধলডাঙ্গা বাজার ভূরুঙ্গামারী উপজেলা
  • কালজানি ঘাট ভূরুঙ্গামারী উপজেলা
      • চিলমারী বন্দর
  • জয়মনিরহাট জমিদার বাড়ি ভূরুঙ্গামারী উপজেলা
  • মাধাইখাল কালী মন্দির-নাগেশ্বরী উপজেলা
  • বহলকুড়ি ভারত ও বাংলাদেশ ১০০১ নাম্বার রাষ্ট্রীয় সীমানা চুক্তি পিলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলা
  • চাকিরপাশার বিল।
  • টগরাইহাটের অচিন গাছ।
  • দাশিয়ার ছড়া (সাবেক ছিটমহল)
  • আমতলি সর্বজনীন দুর্গা মন্দির(রাজারহাট)
      • তুরা বন্দর,রৌমারী উপজেলা
      • রাজিবপুর সীমান্ত হাট
  • জেলার ১৬ টি নদ-নদী
  • ৪২০ টির অধিক চরাঞ্চল
  • ব্রহ্মপুত্র নদ বাংলাদেশে প্রবেশ মুখ-ঝুনকারচর থেকে খেয়ারচর।
See also  খাগড়াছড়ি দর্শনীয় স্থান যাওয়া আসা ভাড়া,আবাসিক হোটেল, অবৈধ দেহ ব্যবসা | Khagrachari Abasik Hotel

কিভাবে যাবেন?

স্থল পথে

সড়ক পথে ঢাকা হতে কুড়িগ্রামের দূরত্ব ৩৮০ কিলোমিটার এবং রেলপথে ঢাকা হতে কুড়িগ্রাম রেল স্টেশনের দূরত্ব ৫৮৫ কিলোমিটার। জেলা সদরটি বিভাগীয় শহর রংপুর হতে ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

সড়কপথ

ঢাকার গাবতলী, সায়েদাবাদ, আসাদগেট, শ্যামলী, মহাখালী, মিরপুর বাস স্টেশন থেকে কুড়িগ্রামে আসার সরাসরি দুরপাল্লার এসি ও নন-এসি বাস সার্ভিস আছে; এগুলোতে সময় লাগে ৬.৩০ হতে ৮.০০ ঘণ্টা। ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামের উদ্দেশ্যে হক, নাবিল, জবা, এসবি প্রভৃতি পরিবহন কোম্পানীর বাস আছে প্রতিদিন।

  • হক পরিবহন, ঢাকা: ☎ ০২-৯১১৮৭১৩, মোবাইল: ০১৭২২-০৫২ ৮০৯ (আসাদগেট), কুড়িগ্রাম: ☎ ০৫৮১-৬১৮৭৩, মোবাইল: ০১৭১৮-০২৭ ৫১৬;
  • জবা পরিবহন, ঢাকা: ☎ ০২-৯১১২৩৪২, মোবাইল: ০১৭১২-৭২৫ ৯৬৫ (আসাদগেট), কুড়িগ্রাম: ☎ ০৫৮১-৬১৭৭২, মোবাইল: ০১৭১১-১০১ ৩৪২;
  • এসবি পরিবহন, ঢাকা: মোবাইল: ০১১৯৭-০২৫ ৬১৫ (আসাদগেট), কুড়িগ্রাম: ☎ ০৫৮১-৬১ ৮৮৭, ৬১ ৩৩৭, মোবাইল: ০১১৯৭-০২৫ ৬১৪;
  • মোল্লা পরিবহন, ঢাকা: মোবাইল: ০১৮১৯-০২৯ ৪৫৩, ০১৭২০-১৭২ ৮৭১ (মিরপুর), কুড়িগ্রাম: ☎ ০৫৮১-৬১৭৬২, মোবাইল: ০১৭১২-২১২ ০৬৬;
  • নাবিল পরিবহন, ঢাকা: ☎ ০২-৮১২৭৯৪৯, মোবাইল: ০১৭১৪-৮২৭ ৩৭৩ (আসাদগেট), কুড়িগ্রাম: ☎ ০৫৮১-৫২৪৭১, মোবাইল: ০১৮২৪-৯৮০ ৭১৯;
  • হানিফ এন্টারপ্রাইজ, ঢাকা: ☎ ০২-৯১৪ ৪৪৮২, ৮০১ ১৭৫০, ৯০০ ৩৩৮০, ৮১১ ৯৯০১, মোবাইল: ০১১৯৮-২২০ ০৫২ (শ্যামলী), ০১১৯০-১৮৮ ১৬৯ (গাবতলি);
  • কুড়িগ্রাম পরিবহন, মোবাইল: ০১৯২৪-৪৬৯ ৪৩৭, ০১৯১৪-৮৫৬ ৮২৬।
  • ঢাকা-কুড়িগ্রাম রুটে সরাসরি চলাচলকারী পরিবহনে আসার ক্ষেত্রে ভাড়া হলোঃ
    • এসি বাসে – ৭০০/- এবং
    • নন-এসি বাসে – ৩৫০/- – ৫০০/-।

রেলপথ

ঢাকার কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে ট্রেনে সরাসরি, অথবা লালমনিরহাট অভিমুখী ট্রেনে রংপুরের কাউনিয়া এসে সেখান থেকে সড়ক পথে কুড়িগ্রাম আসা যায়। কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে প্রতিদিন একাধিক ট্রেন কুড়িগ্রাম – কাউনিয়া পথে যাতায়ত করে। ঢাকা – কুড়িগ্রাম / কাউনিয়া রুটে চলাচলকারী ট্রেনগুলো হলোঃ

  • ৭৭১ রংপুর এক্সপ্রেস (রবিবার বন্ধ) – রংপুর হতে রাত ০৮ টায় ছাড়ে ও ঢাকায় ভোর ৬টা ১৫ মিনিটে পৌছে এবং ঢাকা থেকে সকাল ০৯ টায় ছাড়ে ও রংপুরে সন্ধ্যা ৭টায় পৌছে;
  • লালমনি এক্সপ্রেস (শুক্রবার বন্ধ) – ঢাকা থেকে রাত ১০ টা ১০ মিনিটে ছাড়ে।

ঢাকা-কুড়িগ্রাম রুটে চলাচলকারী রেলে ঢাকা হতে কুড়িগ্রাম আসার ক্ষেত্রে ভাড়া হলো –

  • শোভন চেয়ার – ৫১৫ টাকা;
  • স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার) – ৯৮৪ টাকা।

ট্রেন সম্পর্কিত তথ্যের জন্য যোগাযোগ করতে পারেনঃ

  • কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন, ☎ ০২-৯৩৫৮৬৩৪,৮৩১৫৮৫৭, ৯৩৩১৮২২, মোবাইল নম্বর: ০১৭১১৬৯১৬১২;
  • বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন, ☎ ০২-৮৯২৪২৩৯;
  • ওয়েবসাইট: www.railway.gov.bd।

আকাশ পথে

কুড়িগ্রামে কোনো বিমানবন্দর না-থাকায় এখানে সরাসরি আকাশ পথে আসা যায় না, তবে ঢাকা থেকে সরাসরি বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের সাথে; ঢাকা থেকে সৈয়দপুর এসে সেখান থেকে সড়কপথে কুড়িগ্রাম আসা যায়। বাংলাদেশ বিমান, জেট এয়ার, নোভো এয়ার, রিজেন্ট এয়ার, ইউনাইটেড এয়ার – প্রভৃতি বিমান সংস্থার বিমান পরিষেবা রয়েছে ঢাকা থেকে সৈয়দপুর আসার জন্য।

বাংলাদেশ বিমানের একটি করে ফ্লাইট সপ্তাহে ৪ দিন ঢাকা-সৈয়দপুর ও সৈয়দপুর-ঢাকা রুটে চলাচল করে; ভাড়া লাগবে একপথে ৩,০০০/- এবং রিটার্ণ টিকিট ৬,০০০/-। সময়সূচী হলোঃ

  • ঢাকা হতে সৈয়দপুর – শনি, রবি, মঙ্গল, বৃহস্পতি – দুপুর ০২ টা ২০ মিনিট;
  • সৈয়দপুর হতে ঢাকা – শনি, রবি, মঙ্গল, বৃহস্পতি – দুপুর ০৩ টা ৩৫ মিনিট।
See also  আট মাস যৌনপল্লীতে থাকার পর যেভাবে পালালেন বিক্রি হওয়া তরুণী

এই সম্পর্কিত তথ্যের জন্য যোগাযোগ করতে পারেনঃ

    • ম্যানেজার, সৈয়দপুর বিমান বন্দর, মোবাইল – ০১৫৫৬-৩৮৩ ৩৪৯।

জল পথে

অপ্রচলিত মাধ্যম হিসাবে নৌপথ ব্যবহৃত হয়ে থাকে; তবে কেবলমাত্র স্থানীয় পর্যায় ছাড়া অন্য কোনো এলাকার সাথে, কিংবা ঢাকা থেকে বা অন্যান্য বড় শহর হতে সরাসরি কোনো নৌযান চলাচল করে না। তবে, চরাঞ্চলে যোগাযোগের একমাত্র বাহন নৌযান।

দর্শনীয় স্থান ও স্থাপনা

  • চণ্ডী মন্দির – উলিপুর;
  • দোলমঞ্চ মন্দির – উলিপুর;
  • ধরলা ব্রিজ – কুড়িগ্রাম সদর;
  • ধরলা বাঁধ – কুড়িগ্রাম সদর;
  • মোগলবাসা ভাটলার স্লুইচগেট – কুড়িগ্রাম সদর;
  • ঘোগাদহ বাজার – কুড়িগ্রাম সদর;
  • শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিফলক – ঘোষপাড়া, কুড়িগ্রাম সদর;
  • স্বাধীনতার বিজয় স্তম্ভ – কলেজ মোড়, কুড়িগ্রাম সদর;
  • বেহুলার চর – চর রাজিবপুর;
  • বালিয়ামারী সীমান্ত হাট – চর রাজিবপুর;
  • চিলমারী বধ্যভূমি;
  • রমনা ঘাট – চিলমারী;
  • চিলমারী বন্দর – চিলমারী;
  • ভিতরবন্দ জমিদার বাড়ি – নাগেশ্বরী;
  • ফুলসাগর – ফুলবাড়ী;
  • নাওডাঙ্গা জমিদার বাড়ি – ফুলবাড়ী;
  • ভুরুঙ্গামারী বধ্যভূমি – ভুরুঙ্গামারী;
  • সোনাহাট স্থল বন্দর – ভুরুঙ্গামারী;
  • চাকির পশার বিল – রাজারহাট;
  • সিন্দুরমতি দিঘি – রাজারহাট;
  • চান্দামারী মসজিদ – রাজারহাট;
  • শাহী মসজিদ – রাজারহাট;
  • কোটেশ্বর শিব মন্দির
  • পাঙ্গা জমিদার বাড়ি
  • ঘড়িয়ালডাঙ্গা জমিদার বাড়ী
  • টুপামারী (জিয়া পুকুর)
  • মুন্সিবাড়ী
  • ধাম শ্রেণী মন্দির
  • জালার পীরের দরগাহ
  • উদুনা-পুদুনার বিল
  • সোনাহাট ব্রিজ
  • ফুল সাগর
  • চতুর্ভূজ সেনপাড়া শিব মন্দির
  • ধলডাঙ্গা বাজার
  • কালজানি
  • জয়মনিরহাট জমিদারবাড়ি
  • মাধাইখাল কালী মন্দির।

খাওয়া দাওয়া

‘সিদল ভর্তা’ এখানকার জনপ্রিয় খাবার, যা কয়েক ধরনের শুঁটকির সঙ্গে নানা ধরনের মসলা মিশিয়ে বেটে তৈরি করা হয়। এছাড়াও রয়েছে বিখ্যাত “হাড়িভাঙ্গা” আম, তামাক ও আখ। এখানে সাধারণভাবে দৈনন্দিন খাওয়া-দাওয়ার জন্য স্থানীয় হোটেল ও রেস্টুরেন্টগুলোতে সুস্বাদু খাবার পাওয়া যায়। মিষ্টি জাতীয় খাবারের মধ্যে বিখ্যাত হলো ক্ষীর লালমোহন। এছাড়াও তিস্তা নদীর বৈরাতি মাছ কুড়িগ্রামের অন্যতম জনপ্রিয় খাবার।

থাকা ও রাত্রী যাপনের স্থান

কুড়িগ্রামে থাকার জন্য স্থানীয় পর্যায়ের কিছু সাধারণ মানের আবাসিক হোটেল রয়েছে। এছাড়াও সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় থাকার জন্য উন্নতমানের আবাসন সুবিধা পাওয়া যায় –

  • সার্কিট হাউজ, কুড়িগ্রাম, ☎ ০৫৮১-৬১ ৩০৪, মোবাইল: ০১৭৭৪-৪৩৪ ২৫০;
  • হোটেল বসুন্ধরা, কুড়িগ্রাম, ☎ ০৫৮১-৬১ ৫০৭;
  • হোটেল ডিকে, ঘোষপাড়া, কুড়িগ্রাম, মোবাইল: ০১৭১২-১২৩ ১৭১;
  • হোটেল স্মৃতি, কেন্দ্রীয় বাসটর্মিনাল, কুড়িগ্রাম, মোবাইল: ০১৭১৯-০২৮ ৪১১;
  • হোটেল মেহেদী, ঘোষপাড়া, কুড়িগ্রাম, মোবাইল: ০১৭১১-৩৪৮ ৯১০;
  • হোটেল নিবেদিকা, আদর্শ পৌরবাজার, কুড়িগ্রাম, মোবাইল: ০১৭১৭-০৫৮ ২৯৫;
  • হোটেল অর্ণব প্যালেস, কেন্দ্রীয় বাসটর্মিনাল, কুড়িগ্রাম, মোবাইল: ০১৭৪০-৫৭১ ০০৬;
  • অর্নব হোটেল, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, কুড়িগ্রাম, মোবাইল: ০১৮১৯-০৩০ ৫২৬;
  • হোটেল আরজি, ঘোষপাড়া, কুড়িগ্রাম;
  • মিতা রেস্ট হাউস, সবুজপাড়া, কুড়িগ্রাম;
  • টেরেটেস হোমস, সদর হাসপাতাল রোড, কুড়িগ্রাম;
  • হোটেল সাগর রেস্ট হাউস, সাগর সুপার মার্কেট, কুড়িগ্রাম;
  • হোটেল আকাশ, কুড়িগ্রাম।

জরুরি নম্বরসমূহ

জননিরাপত্তা সম্পর্কিত যোগাযোগের জন্য
  • ওসি উলিপুর, মোবাইল: ০১৭১৩-৩৭৩ ৯৩১;
  • ওসি কুড়িগ্রাম, মোবাইল: ০১৭১৩-৩৭৩ ৯২৬;
  • ওসি কোচাকাটা, মোবাইল: ০১৭১৩-৩৭৩ ৯৩৬;
  • ওসি চর রাজীবপুর, মোবাইল: ০১৭১৩-৩৭৩ ৯৩৪;
  • ওসি চিলমারী, মোবাইল: ০১৭১৩-৩৭৩ ৯৩২;
  • ওসি দুসমারা, মোবাইল: ০১৭১৩-৩৭৩ ৯৩৫;
  • ওসি নাগেশ্বরী, মোবাইল: ০১৭১৩-৩৭৩ ৯২৯;
  • ওসি ফুলবাড়ী, মোবাইল: ০১৭১৩-৩৭৩ ৯২৮;
  • ওসি ভুরুঙ্গামারী, মোবাইল: ০১৭১৩-৩৭৩ ৯৩০;
  • ওসি রাজারহাট, মোবাইল: ০১৭১৩-৩৭৩ ৯২৭;
  • ওসি রৌমারী, মোবাইল: ০১৭১৩-৩৭৩ ৯৩৩।