হাজীগঞ্জ আবাসিক চলছে রমরমা দেহ ব্যবসা

হাজীগঞ্জ আবাসিক চলছে রমরমা দেহ ব্যবসা

হাজীগঞ্জে আবাসিক হোটেল নিউ আল আমিনে দিনে-রাতে অবাধে চলছে রমরমা দেহ ব্যবসা। প্রশাসনের নাকের ডগায় নারী দেহের পসরা সাজিয়ে অবাধে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে মো. শাহ আলম মজুমদার। এর সাথে জড়িত প্রভাবসালী মহল ও গুটি কয়েক নামধারী সাংবাদিক।

হাজীগঞ্জ বিশ^ রোড রামগঞ্জ রোডের মুখে অবস্থিত হাজীগঞ্জে আবাসিক হোটেল নিউ আল আমিনে চলছে দেহ ব্যবসা। বর্তমানে এ ব্যবসা মহাআকার ধারণ করেছে। আর এসব চলছে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়েই।

গ্রামের সহজ সরল অপ্রাপ্ত বয়ষ্ক মেয়েদের দেহ ব্যবসায় বাধ্য করানোর অভিযোগও মিলছে হরহামেশাই। সাংবাদিকদের সামনে কথা বলতে রাজি নয় হোটেল মালিক। তবে হোটেল মালিক শাহ আলম মজুমদার বলছেন, আমরা স্বামী স্ত্রী ছাড়া অন্য কাউকে ভাড়া দিলে তার কাবিন নামা ও পরিচয় পত্র রাখি।

কিন্তু অনুসন্ধানে জানাযায়, এ হোটেলে ১৭ নাম্বার নামে পরিচত একটি কক্ষ পরিচত রয়েছে। এ কক্ষেই চলে অবৈধ কার্যকলাপ।
গত এক মাসে এ আবাসিক হোটেল নিউ আল আমিনে বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। কপত-কপতীকে পুলিশ নিয়ে বিয়ে পড়িয়েছে, কাউকে পুলিশ উদ্ধার করেছে আবার একটি ঘটনায় মামলা হওয়ার পর পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আবার স্থানীয় কিছু যুবক হোটেল থেকে আটক করে অভিভাবকের হাতে তুলে দিয়েছে।

অনুসন্ধানে আরো জানাযায়, অধিকাংশ কপত-কপতী লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলাসহ আশ- পাশের উপজেলার। স্থানীয় ও প্রশাসন সুত্রে জানাযায়, গতকাল ১৫ জুলাই ২০১৮ খ্রি. রবিবার দুপুরে আবাসিক হোটেল নিউ আল আমিনের ১৭ নং কক্ষ থেকে রামগঞ্জ উপজেলার কপত-কপতীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে উভয়ের অভিভাবককে খরব দিয়ে তাদের হাতে তুলে দেয়।

এ ছাড়াও গত সাপ্তাহে পটুয়াখালীর এমরান নামের এক যুবক ভুল তথ্য দিয়ে মতলব উপজেলা এক মেয়েকে নিয়ে রাত কাটায় হোটেলে। পরে ঐ মেয়েটি রামগঞ্জ থানাসহ বেশ কয়েক জায়গায় লিখিত অভিযোগ করে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল বরিবার রামগঞ্জ থানা পুলিশ তদন্তে আসে আবাসিক হোটেল নিউ আল আমিনে। তদন্তে আসা রামগঞ্জ থানা পুলিশ ঐ ১৭ নং কক্ষ থেকে উদ্ধার করে কপত-কপতীকে। পরে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশকে খবর দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়।

See also  পশ্চিমা কালচারে মেতে উঠেছে হবিগঞ্জ \ শহরের বিলাসবহুল হোটেল ও একাধিক আবাসিক ভবনে চলছে দেহ ব্যবসা

অনুসন্ধান করতে গিয়ে আরো জানাযায়, হোটেল মালিক মো. শাহ আলম মজুমদারের একটি দালাল চক্রকে দিয়ে এ হোটেলে কপত-কপতী নিয়ে আসে। এখানে আসলেই মোটা অংকের বিনিময়ে হোটেল রোম ভাড়া করে দেয়। আবার এমনও অভিযোগ রয়েছে ঐ কপত যদি টাকা ওয়ালা হয়, তবে পুলিশের ভয় দেখিয়ে কপত-কপতীর কাছে থাকা স্বর্ণা-লংকার ও টাকা-পয়সা রেখে দেয়া হয়।

এছাড়াও এ আবাসিক হোটেল নিউ আল আমিনের চার পাশে রয়েছে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবীদের আনাগোনা। কেই নিরাপদে ব্যবসার জন্য ব্যবহার করছে এ হোটেলটি। আবার মাদক সেবীরাও হোটেল রোম ভাড়া করে মাদক সেবনের অভিযোগ উঠে। আর হোটেল মালিক মো. শাহ আলম মজুমদার রাতারাতি লক্ষ লক্ষ টাকার মালিক বুনে যাচ্ছেন।

গতকার রবিবার হোটেল মালিকের সাথে কথা বলতে গেলে দেখা যায় একজন যুবক। হাতে ছোট ছোট দুটি ব্যাগ। তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন তার নাম ফারুক, পিতা- মফিজ উদ্দিন, বাড়ী – কুমিল্লা। তিনি বলেন, হোটেলে থাকার জন্য একটি রোম ভাড়া নিতে এসিছি। সে এরোস্ট ফার্মা ঔষধ কম্পানীতে চাকুরী করেন। তবে তাকে দেখে মনে হয়েছে সে একজন মাদক ব্যবসায়ী। বেশ কিছু প্রশ্ন করলে সে এড়িয়ে গিয়ে হোটেল রোম ত্যাগ করে।

স্থানীয়দের অভিযোগ দীর্ঘদিন যাবৎ এইসব অপকর্ম চললেও তাদের কেউ কিছু করছে না। মাঝে মাঝে হোটেলের সামনে পুলিশ থাকলেও কোন অভিযান চালায় না।

আবার স্থানীয় কেউ কেউ বলছেন খদ্দেরের কাজ থেকে যে টাকা নেয় তার ৫০ ভাগ তাদের দেয়া হয় দালালদেরকে। বাকি টাকা হোটেল রুম ভাড়া ও তারা ভাগ করে নেয়।

হোটেল মালিক মো. শাহ আলম মজুমদারের সাথে কথা বলতে গেলে তিনি জানান, হোটেলে এমন কিছু ছোট খাট ঘটনা ঘটেই। তবে আমার কোন স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দান কারীকে রোম ভাড়া দিলে তাদের কাবিননামা ও পরিচয় পত্র রেখে ভাড়া দেই। তবে এ সকল বিষয় নিয়ে আপনাদের সাথে কথা বলার কিছু নেই। আর আমাদের বিরুদ্ধে কোন প্রকার পত্রিকায় রিপোর্ট প্রকাশ করলে আমি আপনাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দিবো।

See also  অসামাজিক কার্যকলাপ চলাকালে পাবনা শহরের আবাসিক হোটেল থেকে ১১ জন আটক

এ প্রসঙ্গে হাজীগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার মো. খলিলুর রহমান বলেন, এর আগেও হোটেল মালিককে সতর্ক করা হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে অনুসন্ধান করে অপরাধীদেরকে আইনের আওতায় এনে যথাযগ্য শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে এবং প্রয়োজনে হোটেল বন্ধ করে দেয়া হবে।

source:: https://ajker-deshkantho.com/